নীলফামারীর জলঢাকায় হরিশ্চন্দ্রপাঠ বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ঘটনার সাথে জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে থানাপুলিশ।

আটককৃতরা হল হরিশ্চন্দ্রপাঠ সুরিপাড়া এলাকার কাল্টু মামুদের ছেলে আনিছুর রহমান (৩৫) ও একই এলাকার ঝড়– মামুদের ছেলে লোকমান হোসেন (৫০)। সোমবার দুপুরে উপজেলার হরিশ্চন্দ্রপাঠ বহুমূখী স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর হামলার প্রতিবাদে ওইদিন বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলা আ’লীগের কয়েকটি অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, হরিশ্চন্দ্রপাঠ বহুমূখী স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব:) রানা মোহাম্মদ সোহেল। এছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর, ইউএনও মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তারুজ্জামান, ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, পৌরমেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু, আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল, জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অধ্যাপক মমিনুল ইসলাম মঞ্জু, খুটামারা ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ শামীম, যুবলীগ আহবায়ক সারোয়ার হোসেন ছাদের প্রমূখ। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের মনোনীত সভাপতি নির্বাচিত ব্যক্তিকে ঘিরে স্থানীয়রা বিরোধিতা করলে একপর্যায় তা সংঘর্ষে রুপ নেয়।

এসময় আকস্মিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর হামলা চালায় দুবৃত্তরা। এতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর গুরুতর আহত হন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত কমিটি না থাকায় তা নিরসনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে নিস্পত্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সহযোগিতা না করায় এবং তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার উপর পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব:) রানা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে বিধি মোতাবেক যা করনীয় ওই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমি তাই করেছি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কোন স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্দন থাকতে পারে।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপাঠ বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।