দীর্ঘ দেড়মাস পর আগামীকাল থেকে আবারও চালু হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা নৌরুট সহ সারা দেশে যাত্রীবাহি নৌযান চলাচল। রবিবার (২৩ মে) সরকারী ঘোষনার পরপরই বরিশাল নদী বন্দরে নোঙ্গর করে রাখা যাত্রীবাহি লঞ্চগুলো ধোয়া মোছা শুরু হয়। ছুটিতে থাকা কর্মীচারীদের দ্রুত কর্মস্থলে ফিরতে বলা হয়।

দির্ঘ ৪৬ দিন পর লঞ্চ চালুর খবরে আনন্দের বন্যা বইছে নৌযান শ্রমিকরা। তবে করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধি মেনে লঞ্চ চলাচলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। লঞ্চ মালিক-শ্রমিক এবং সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনের পরামর্শ দিয়েছে সুশীল সমাজের নেতারা।

করোনা সংক্রামন রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকারী সারা দেশে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষনা করে। পরদিন ৬ এপ্রিল থেকে সারা দেশে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় মালিকরা বেশীরভাগ কর্মচারী বাড়ি পাঠিয়ে দেয় কোন ধরনের বেতন-ভাতা ছাড়াই। দুই একজন কর্মচারী লঞ্চ পাহাড়া দেয়ার জন্য রাখলেও তাদের বেতন-ভাতা এমনকি পর্যাপ্ত খোরাকীর টাকাও দিত না মালিকরা। এতে নৌযান শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে গত দেড় মাস ধরে। লঞ্চ চালুর দাবীতে তারা বরিশাল এবং চাঁদপুর নদী বন্দরে বিক্ষোভ করে।

লঞ্চ মালিকরাও শনিবার (২২ মে) ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে লঞ্চ চালুর দাবী জানান। মালিক-শ্রমিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার রবিবার (২২ মে) এক ঘোষনায় সোমবার (২৩ মে) থেকে সারা দেশে যাত্রীবাহি নৌযান শুরুর ঘোষনা দেয়। এতে আনন্দের জোয়ার বইছে বরিশাল নদী বন্দরের শ্রমিক-মালিকদের মাঝে। সরকারী ঘোষনার পরপরই নদী বন্দরে নোঙ্গর করা রাখা নৌযানগুলো ধোয়া মোছার কাজ শুর হয়। বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া শ্রমিকদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজে যোগ দিতে বলা হয়।

লঞ্চ চালু হলে শ্রমিকরা কোনমতে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারবে বলে জানান নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক ও নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগামীকাল থেকে যাত্রীবাহি নৌযান চালুর সরকারী সিদ্ধান্তের খবর তিনি শুনেছেন।

স্বাস্থ্য বিধি মেনে লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা বরেন তিনি। এদিকে বরিশালের সুশীল সমাজ নেতারা বলছেন, লঞ্চ চালুর খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তির। তবে মালিক-শ্রমিক এবং বিআইডব্লিউটিএ সবার সম্মিলিত প্রচেস্টায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবী জানান তারা।

বরিশাল-ঢাকা রুট সহ সারা দেশে যাত্রীবাহি ৭শ’ নৌযান রয়েছে। এতে কাজ করছে অন্তত ২০ হাজার নৌযান শ্রমিক।