ইতোমধ্যে জারি হওয়া বেসরকারি স্কুল কলেজের নতুন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে বিভিন্ন কলেজে কর্মরত প্রভাষকদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে।

প্রভাষকদের পদোন্নতির বিষয়টি আরও পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট করতে একটি রূপরেখা তৈরি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে আগামী ৮ মে (শনিবার) এ বিষয়ে একটি সভা করবে মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করতে একটি রূপরেখা করা হচ্ছে। রূপরেখাটি পদোন্নতির বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করা হবে, যাতে কোন বিভ্রান্তি না থাকে। 

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বিধিবিধানের অন্যরকম ব্যাখ্যা মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্টরা দেন। ফলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হন শিক্ষকরা। এ ধরনের কোন বিভ্রান্তি যাতে না সৃষ্টি হয় তাই রূপরেখাটি করা হচ্ছে। এটি মাঠপর্যায়ে দেয়া হবে। এ বিষয়গুলো নিয়েই সভা হওয়ার কথা আছে। 

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের প্রভাষকদের চাকরির ৮বছর পুর্তিতে প্রভাষক থেকে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে এবং ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদোন্নতি নিয়ে আগামী ৮ মে (শনিবার) একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন।

সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক, মিরপুর কলেজের অধ্যক্ষ ও অগ্রনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে অংশ নিতে বলা হয়েছে। 

জানা গেছে, নতুন নীতিমালা অনুসারে প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ প্রভাষক ৮ বছর পুর্তিতে পদোন্নতি পাবেন। তবে, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক কলেজের সব প্রভাষকের জন্যই পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। আর ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের মাধ্যমেই প্রভাষকদের পদোন্নতি দেয়া হবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে। বেসরকারি স্কুল কলেজের এমপিও নীতিমালা অনুসারে প্রভাষকদের পদোন্নতি ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের মাধ্যমে দেয়া হবে। 

নতুন নীতিমালায় প্রভাষকদের পদোন্নতির বিষয়ে বলা হয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ৮ বছর পুর্তিতে মোট প্রভাষকের মোট পদের ৫০ শতাংশ মূল্যায়নের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতি পাবেন। ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি পাবেন তারা। জ্যেষ্ঠ প্রভাষকরা ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা স্কেলে ৬ গ্রেডে বেতন পাবেন। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে সহকারী অধ্যাপক বলেও কোন পদ থাকবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ১০ বছর পুর্তিতে ৯ গ্রেড থেকে ৮ গ্রেডে বেতন পাবেন। মোট ১৬ বছর পুর্তিতে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। পদোন্নতি ছাড়া সমগ্র চাকরির জীবনে ২টির বেশি উচ্চতর গ্রেড বা টাইমস্কেল পাবেন না।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকদের চাকরির ৮ বছর পুর্তিতে মোট প্রভাষক পদের ৫০ শতাংশ নির্ধারিত সূচকে মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ১০ বছর পুর্তিতে ৯ গ্রেড থেকে ৮ গ্রেডে বেতন পাবেন। মোট ১৬ বছর পুর্তিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। পদোন্নতি ছাড়া সমগ্র চাকরির জীবনে ২টির বেশি উচ্চতর গ্রেড বা টাইমস্কেল পাবেন না। 

প্রভাষকদের পদোন্নতিতে যে ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে তাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এমপিও প্রাপ্তির জ্যেষ্ঠতায় ১৫ নম্বর, পরীক্ষার ফলে ১৫ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতি ২০ নম্বর, নেতিবাচক রেকর্ডে না থাকলে ২০ নম্বর, বিভাগীয় মামলা না থাকলে ৫ নম্বর, সৃজনশীল দৃষ্টান্তে ১০ নম্বর, ভার্চুয়াল ক্লাস নেয়ার দক্ষতায় ১০ নম্বর, এমফিল-পিএইচডিতে ৫ নম্বর, গবেষণা কর্ম ও স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ থাকলে ১০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরে মূল্যায়নের মাধ্যমে পদোন্নতি পাবেন প্রভাষকরা।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছিল, মূল্যায়ন ও পদোন্নতির ক্ষোত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি কমিটি গঠন করবে। সেই কমিটি সূচকগুলো মূল্যায়ন করে পদোন্নতি প্রদান করবে কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকলে পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় আসবে না।