প্রিয় নবী বলেছেন, আস্তে আস্তে ইসলাম হ্রাস পাইতে থাকবে। বিবেদ আর হানাহানিতে দুনিয়া ভরে যাবে। গরীবরা বড় বড় প্রসাধের মালিক হয়ে একজন আরেকজনের সাথে প্রতিযোগীতা করবে। আরও অনেক কিছুই বলে গেছে যা হয়ত আমরা জানলেও মানতে রাজি নই। কারণ সবাই আমরা দুনিয়ার সম্পদের মোহে পরকালকে ভুলে যেতে চলছি।

সত্যি কথা কি আমাদের সকলের মানতেই হবে, এদুনিয়াতে এসেছি মাত্র কয়েক বছর, কিংবা কয়েক সেকেন্ডের জন্য।

বেশি না বাড়িয়ে আসল কথা হলো মসজিদুল আকসা আসলে কি? কেনই-বা ফিলিস্তিনের মুসলমান ভাইয়েরা হাসতে হাসতে জীবন দান করেন? আসলে এর রহস্য কোথায়? একটু জানতে চেষ্টা করি আার ফিলিস্তিনি ভাই বোনদের জন্য কিছু না করতে পারলেও একটু দোয়া করি।

মুসলিম সমাজের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই জানেই না কেনো মুসলমানদের নিকট মসজিদুল আকসা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে ইহুদিরা সমগ্র ফিলিস্তিনই দখল করে নিয়েছে, সেখানে মাত্র ১৪ একর জায়গার জন্য কেনো এতো অত্যাচার নির্যাতনের পরেও  ফিলিস্তিনের মুসলমানরা বারবার মসজিদের দিকে ধাবিত হচ্ছে!!

১. এখানেই রয়েছে হযরত ইব্রাহিম এবং মূসা (আ) সহ অসংখ্য নবী রাসুলের কবর।

২. এখানেই আল্লাহর বন্ধু প্রিয় নবী রাসুল ছাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া ছাল্লাম সকল নবী রাসূলদের এবং ফেরেস্তাদেরকে নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। সেই জামাতের ইমাম ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া ছাল্লাম এবং এই জামাতে মতান্তরে প্রায় এক লাখ চব্বিশ হাজার নবী রাসুল ছিলেন।

৩. এখান থেকেই হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বোরাকে করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন।

৪. এই মসজিদের নির্মাণের সাথে জড়িয়ে আছে হযরত আদম আঃ এবং সুলাইমান আঃ এর নাম।

৫. এর সাথে জড়িয়ে আছে খলিফা হযরত উমর (রা) এর সেই বিখ্যাত উটের বিরল ঘটনা।

৬. এই মসজিদের সাথেই জড়িয়ে আছে দ্যা গ্রেট সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবীর অসংখ্য স্মৃতি।

৭. এই মসজিদের পাথরের গায়ে লেখা রয়েছে সম্পূর্ণ সূরা ইয়াসিন।

৮. এই মসজিদের জন্য জ্বীনদের দ্বারা পাথর উত্তোলন করা হয়েছে সাগরের তলদেশ থেকে। যা কিনা কোন মানুষের পক্ষে অসম্ভব!!!

৯. এই মসজিদে দুই রাকাআ’ত নামাজ আদায় করার জন্য ২৫ হাজার রাকাআ’ত নামাজের সওয়াব লিখা হবে।

১০. পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি মহান আল্লাহ এই মসজিদ নিয়ে আলোচনা করছেন।তোমাদের কেউ যদি কোনো খারাপ কাজ বা বিষয় দেখে তাহলে সে যেন হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করে দেয়, যদি তা করতে অপারগ হয় তাহলে যেন মুখ দিয়ে তার প্রতিবাদ করে, যদি তাও করতে সক্ষম না হয় তাহলে যেন অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে, (তবে অন্তরে ঘৃণা করা এই নয় যে, ঘৃণা করতে করতে সব ভুলে যাওয়া বরং চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে যাতে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর) আর এটাই হচ্ছে ঈমানের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বলতম স্তর। (বুখারি, হাদিস নং: ১৯৪) আল্লাহ পাক ঘুমন্ত মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের বিবেককে জাগ্রত করুন, আমিন……..

মো: রেদওয়ান হোসাইন, সম্পাদক ও প্রকাশক, শিক্ষা টাইমস ডট কম।