রবিউল আউয়াল ( ربيع الأول ) ইসলামিক বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস।সৈয়দ ইবনে তাউস তার “আল ইকবাল” নামক গ্রন্থে রবিউল আওয়াল মাসের ফযিল সম্পর্কে এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত মাসটি হচ্ছে খুবই গুরুপূর্ণ একটি মাস।কেননা এ মাসে রাসুল (সা.) এ মাসে মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করেছিলেন।
শেইখ মুফিদ (রহ.) এর বর্ণনা করেছেন যে, এ দিনে রোজা রাখা হচ্ছে মুস্তাহাব।কেননা এ দিনে রাসুল (সা.) মক্কার মুশরিকদের হাত থেকে নিস্তার লাভ করেন।(ইকবালুল আমাল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০৫)
মরহুম জাওয়াদ মালিক তাবরিযি তার “আল মুরাকেবাত” নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত মাসের নাম থেকেই স্পষ্ট যে মাসটি হচ্ছে বসন্তের ন্যায়।কেননা আরবি ভাষায় “ربیع”এর অর্থ হচ্ছে বসন্ত।এ মাসে আল্লাহর প্রেরিত পবিত্র নূরি ব্যাক্তি হজরত মোহাম্মাদ (সা.) জন্মগ্রহণের মাধ্যেমে এই ধরণির মুখকে উজ্জল করে।(আল মুরাকেবাতের অনুবাদ, পৃষ্ঠা ৬৫)

১লা রবিউল আওয়াল:

১লা রবিউল আওয়াল তারিখের রাতটি ইসলামের ইতিহাসে “লাইলাতুল মাবিত” নামে সুপরিচিত।রাসুল (সা.) এর বেসাতের ১৩ তম বর্ষে হিজরতের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি সংঘটিত হয়।রাসুল (সা.) এ রাতে মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং পথিমধ্যে “সউর” নামক গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন।অপর দিকে হজরত আলি (আ.) শত্রুদেরকে বিস্মিত করার লক্ষ্যে রাসুল (সা.) এর বিছানায় নিদ্রা যান।তখন তাঁর সম্পর্কে সুরা বাকারা’এর ২০৭ নং আয়াত নাযিল হয়। আর এ কারণে রবিউল আওয়াল মাসের ১লা তারিখে রোজা রাখা হচ্ছে মুস্তাহাব। উক্ত দিনে রাসুল (সা.) এবং হজরত আলি (আ.)এর যিয়ারত পাঠ করা হচ্ছে উত্তম।

৮ই রবিউল আওয়াল:

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ২০৬ হিজরির ৮ই রবিউল আওয়াল তারিখে ইমাম হাসান আসকারি (আ.) এর শাহাদত বরণ করেন এবং সেই দিনটি হচ্ছে মুসলমানদের প্রতিক্ষিত ইমাম মাহদি (আ.)এর ইমামতের প্রথম দিন।উক্ত দিনে উত্তম হচ্ছে ইমাম হাসান আসকারি (আ.) এর যিয়ারত পাঠ করা।

৯ রবিউল আওয়াল (ঈদুল বাকর):

৯ রবিউল আওয়ালকে মুমিনরা বিভিন্ন নামে নামে ঈদ উৎযাপন করে থাকেন।তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ ঈদে বাকর হচ্ছে প্রসিদ্ধ।উক্ত দিনে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করা, মুমিনদেরকে পোষাক এবং খাদ্য প্রদান করা হচ্ছে মুস্তাহাব। কেননা উক্ত দিনটি হচ্ছে ইমাম মাহদি (আ.) এর ইমামতের প্রথম দিন।

১০ই রবিউল আওয়াল:

উক্ত তারিখে রাসুল (সা.)এর সাথে হজরত খাদিজা (সা.আ.)এর বিবাহ সংঘটিত হয়।

১২ই রবিউল আওয়াল:

উক্ত তারিখে রাসুল (সা.) মদিনাতে পৌছান। এই দিনে বণি মারওয়ানের শাষন ক্ষমতার পতন ঘটে।

উক্ত দিনের বিশেষ আমল সমূহ হচ্ছে:

রোজা রাখা।
দুই রাকাত নামা আদায় করা। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে ৩ বার সুরা কাফেরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ইখলাস।

১৭ ই রবিউল আওয়াল:

বিশ্বস্ত হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ১৭ই রবিউল আওয়াল তারিখে রাসুল (সা.) এই ধরাতে জন্মগ্রহণ করেন।উক্ত তারিখে বিভিন্ন আমল রয়েছে। আমল সমূহ হচ্ছে নিন্মরূপ:
উক্ত দিনের নিয়ত করে গোসল করা।
রোজা রাখা।
ইমাম (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উক্ত দিনে রোযা রাখবে আল্লাহ তায়ালা তাকে এক বছরের রোজা রাখার সমপরিমাণ সওয়াব প্রদান করবেন।
সাদকা প্রদান করা।মুমিনদেরকে উপহার প্রদান করা এবং মাসুমিন (আ.)দের কবর যিয়ারত করা।
রাসুল (সা.)এর যিয়ারত করা। রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে আমার ইন্তেকালের পরে যে কেউ দূর অথবা নিকট থেকে আমার যিয়ারত পাঠ করবে তাহলে তার অবস্থা এমন হবে যে সে আমার জিবিত অবস্থায় আমার যিয়ারত করলো।

রাসুল (সা.) এর যিয়ারত নিন্মরূপ:

ইবনে আবি নাসর ইমাম রেযা (আ.) কে জিজ্ঞাসা করে কিভাবে নামাজের পরে রাসুল (সা.) এর যিয়ারত করবো।
রাব্বী হোসাইন, পত্নীতলা (নওগাঁ)
শেয়ার করুনঃ