গাইবান্ধা জেলাধীন সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম মন্ডল একাধিক পদে কর্মরত থেকে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অবৈধভাবে সহকারী শিক্ষকের বেতন ভাতা উত্তোলণ করার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুমফা খাতুন।

সূত্রমতে, আব্দুস ছালাম মন্ডল ১ জানুয়ারি ১৯৯৬ খ্রি. সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিদ্যালয়ের উচ্চতর পদে (সহকারী প্রধান শিক্ষক) বিধি মোতাবেক ২০ জুন ২০১২ খ্রি. যোগদান করেন এবং সকল দপ্তরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাগজপত্র দাখিল করেন।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এমপিও ভুক্ত কোন শিক্ষক/কর্মচারী উচ্চতর পদে যোগদান করলে যোগদানের তারিখ হতে পূর্বের পদের বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না। অথচ প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান সরকার এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম মন্ডল একাত্মতা করে পূর্ব পদের অর্থাৎ সহকারী শিক্ষক পদের বেতন ভাতা অবৈধভাবে উত্তোলন করে আসছেন যা সম্পূর্ণ সরকারি নীতিমালা পরিপন্থী।

চাকুরী জীবনের শুরুতেই আব্দুস ছালাম মন্ডল সহকারী শিক্ষকের (বিএসসি ) একটি পদে একই তারিখে ভিন্ন স্মারকে অবৈধভাবে দুইটি নিয়োগপত্র নিয়েছেন। তিনি একটি পদের একাধিক নিয়োগপত্র প্রধান শিক্ষকের নিকট হতে সত্যায়িত করে বিভিন্ন দপ্তরে ভিন্ন ভিন্ন নিয়োগপত্র  দাখিল করেছেন।

সম্প্রতি উক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক রহস্যজনকভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির স্বাক্ষর দিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে সহকারী শিক্ষক পদে ভূয়া পদবী সংশোধনের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে অবৈধভাবে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। যার স্মারক নং জেশিঅ গা/২০২১/৬০৮, তারিখ:২৪/০৫/২০২১খ্রি.।

উচ্চতর পদ থেকে প্রক্রিয়াবিহীন নিম্ন পদে আসা অবৈধ সত্ত্বেও তার ১ম নিয়োগকালে পত্রিকার বিজ্ঞপ্তিতে শূণ্যপদের কথা উল্লেখ আছে। সেখানে শাখার কোন কথা উল্লেখ না থাকায় উক্ত সংশোধনী কোন নিয়মের মধ্যে পরেনা। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি এসব অনিয়ম সম্পর্কে জানিনা। সকল প্রমাণপত্র সহ অভিযোগ দাখিল করলে অফিস খুললে আমি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল হাসান তার তদন্ত প্রতিবেদনে সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালামের বেতন ভাতা উত্তোলন সমীচীন নয় মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এমতাবস্থায় অবৈধভাবে বেতনভাতা উত্তোলণের তদন্ত, তথ্য গোপন করে এমপিও ভূক্তির তদন্ত এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালামের উপস্থাপিত মিথ্যা তথ্য/ভূয়া পদবী  সংশোধনীর আবেদন বাতিল করা এবং জনবল কাঠামোর ১৮.১ এ বর্ণিত অনিয়মের জন্য সহায়তাকারী প্রধান শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী শিক্ষক রুমফা খাতুন জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ দাখিল করেন এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।(প্রমাণপত্র সংযুক্ত)