লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বেশকিছু অংশে নতুন করে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ জারি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এসব এলাকায় সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। নিতান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না। এমনকি অন্য এলাকা থেকে টিয়ার-ফোর এলাকায় আসা যাবে না এবং টিয়ার-ফোর থেকে অন্য এলাকায় যাওয়া যাবে না। সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংক্রমণ ঠেকাতে করোনা ভাইরাস জনিত বিধিনিষেধের টিয়ার-ফোর আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন জনসন। স্থানীয় সময় আজ রোববার সকাল থেকে লন্ডন, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব ইংল্যান্ড টিয়ার-ফোরে চলে যাবে। দুই সপ্তাহ এমন চলবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর আবার পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে। ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

বড়দিন উপলক্ষে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে করোনাকালীন বিধিনিষেধ শিথিলের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা এখন লন্ডনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বরিস জনসন বলেন, ‘ক্রিসমাস নিয়ে যেমনটি পরিকল্পনা করেছিলাম আমরা, সেটি পারছি না।’ যারা টিয়ার-ওয়ান, টু ও থ্রির আওতাধীন এলাকায় আছে, তারা ক্রিসমাসের দিন আশপাশের ৩ বাড়ির প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে, কিন্তু টিয়ার-ফোরে তা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছেন, নতুন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে। নতুন এই ধরনটি আগের করোনাভাইরাসের চেয়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সংক্রামক হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে লন্ডন ও কেন্ট শহরে প্রথম নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসের দেখা মেলে। ডিসেম্বরে এসে লন্ডনে এই নতুন ধরনের ভাইরাসই বেশি দেখা যাচ্ছে। সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, গত ৯ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী লন্ডনে সংক্রমণের ৬২ শতাংশই এই ভাইরাস। ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে এটি ৫৯ শতাংশ আর দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ৪৩ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী বরিসের সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত ব্রিটিশ সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স এসব কথা জানান।

এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ২০ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বখ্যাত পরিসংখ্যান সাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার এসব তথ্য জানিয়েছে।