ভূমিদস্যুদের হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেন। পুরুষ শূণ্য বাড়িতে ভূমিদস্যুরা হামলা চালিয়ে জমি দখল করতে গেলে বাধা দেয় ওই গৃহবধূ। ঘটনাটি শুক্রবার সকালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রামপট্টি গ্রামে ঘটে। ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এয়ারপোর্ট থানার এসআই আকতার জানিয়েছেন, হামলাকারীরা তাদের সাথে খারাপ আচরণ করলেও কাউকে আটক করা হয়নি। আহত নুরুন্নাহারের ভাই ইসমাইল জানান, দীর্ঘদিন যাবত আমার বোনের বসতবাড়ি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে রামপট্টি এলাকার ভূমিদস্যু হারুন প্রধান। শুক্রবার সকালে বাড়িতে কোন পুরুষ লোক না থাকার সুযোগে হারুন প্রধান, তার ভাই আলমগীর, ছেলে হিমেল, ভাগ্নে বায়েজীদসহ ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী বাহিনী এসে হঠাৎ করেই হামলা চালায় এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা শুরু করে।

এ সময় তার বোন নুরুন্নাহার বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং শ্লীলতাহানী ঘটায়। অবস্থা খারাপ দেখে নুরুন্নাহারের মেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য কামনা করেন। তাৎণিক এয়ারপোর্ট থানার এসআই আকতার ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত গৃহবধূ নুরুন্নাহারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। তবে রামপট্টি বাজারে এসে আটককৃত দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

অবশ্য আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই আকতার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে মাত্র। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাদের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা তাদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন এবং উচ্চবাচ্য করেন।

এছাড়া ওই সন্ত্রাসী বাহিনী রামপট্টি এলাকায় প্রায়ই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে বলেও জানান এসআই আকতার। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুলিশের সাথে সখ্যতার পরিচয় দিয়ে ভূমিদস্যু হারুন প্রধান এলাকার অসহায় মানুষদের নানা সময় হয়রাণী করে আসছে।

এ ব্যাপারে হারুন প্রধানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মতামত পাওয়া যায়নি। এদিকে আহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।