আসন্ন ঈদুল আজহায়ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশের শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের মত মূল বেতনের শতভাগ উৎসবভাতা দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একাধিক সূত্র সাংবাদিকদের জানায়, আগের নিয়মেই শিক্ষকদের জন্য ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ ঈদুল আজহার উৎসবভাতা ও জুন মাসের বেতনের সরকারি আদেশ  (জিও) জারি হয়েছে। ২/১ কদিনের মধ্যেই চেক ব্যাংকে পাঠাতে পারবে মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে, লকডাউনের কারণে কিছুটা দেরিও হতে পারে। 

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, জুন মাসের বেতন ও উৎসবভাতা আগের নিয়মেই পাঠানো হচ্ছে। ইএফটিতে দেয়া যাচ্ছে না। শিক্ষকদের ইএফটির তথ্য যাচাই বাছাই চলছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই এ মাসেও ইএফটিতে শিক্ষকদের বেতন দেয়া শুরু করা যাচ্ছে না।

ঈদুল ফিতরের আগে শতভাগ উৎসব ভাতা না দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। 

২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতনের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। এরপর থেকেই শিক্ষকরা মূল বেতনে শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি শিক্ষকদের মতো চিকিৎসা ভাতা ও বাড়িভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। এসব দাবি জানিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষক সংগঠনগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ সরকারের ঊর্ধ্বতনদের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। শিক্ষকরা এ দাবিতে বহুবার রাজপথেও নেমেছেন। 

গত মার্চে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, নিশ্চয়ই শিক্ষকদের উৎসব ভাতা পাবার বিষয়টি নিয়ে আমরা কথা বলবো। তবে, এটাও মনে রাখতে হবে, করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে কিছু উন্নয়ন প্রকল্প সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় সরকারকে বিপুল পরিমাণে টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। সে বিষয়গুলো চিন্তা করতে হবে। তবে, যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণের চেষ্টা করা হবে।