নাটোরের নলডাঙ্গায় বারোনই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে অচেতন অবস্থায় সকলের সামনেই ভেসে গেলো ঈমন আলী নামে এক কলেজ ছাত্র।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ঘটনাটি ঘটার পর একদিন পেরিয়ে গেলে তার মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসেররাজশাহী থেকে আশা ডুবুরি দল দীর্ঘ তিন ঘন্টা পর ঈমনের মরাদেহ শ্যমনগর মাছের অভয় আশ্রম এর পুব পাশে থেকে উদ্ধার করেন।এ ঘটনাকালীন চলা একটি ভিডিও লাইভ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পাওয়ার পর নলডাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়েও উদ্ধার করতে পারেনি কলেজ ছাত্র ঈমনকে।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলার হলুদঘর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন বারোনই নদীতে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষের সাথে নদীতে ঝাপ দিতে যায়। এক পর্যায়ে ঝাপ দেয়ার সাথে সাথেই অচেতন অবস্থায় প্রথমে ভেসে উঠে। পরে নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিকালে পরিবারের সদস্যরা ঈমনকে খুজতে খুজতে নদীর ধারে তার সাইকেল ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে কান্না শুরু করে। এছাড়া ফেসবুক লাইভের ওই ভিডিওতেও দেখা যায় ঈমন সাইকেল রেখে নদীতে ঝাপ দিয়ে তলিয়ে যায়। ঈমন পার্শ্ববর্তা রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সাধনপুর পঙ্গু নিকেতনের বিজনেরস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। 

বর্ষায় নদীতে নতুন পানি আসায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও শিশুরা নদীতে ঝাপ দিচ্ছিল। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিডি ভিলেজ লাইভ নামে একটি পেজ থেকে লাইভ করা হচ্ছিল সেই দৃশ্য। এতে দেখা যায় নীল গেঞ্জি ও লুঙ্গি পড়ে এক যুবক সাইকেল নিয়ে সেখানে আসে। পরে নদীর পাড়ে সাইকেল রেখে দৌড়ে গিয়ে নদীতে লাফ দেয় সে। ডিংবাজি স্টাইলে লাভ দিয়ে তার মাথাটা নিচে আর শরীরের নীচের অংশটা থাকে উপরে। লাফ দেয়ার পর তার পা দুটো উপরে থাকতেই ভেসে ওঠে তার দেহ। এরপর ভাসতে ভাসতে কিছুদূর যাওয়ার পর আস্তেই তলিয়ে যায় সে।

ঈমন নিখোজের পর ওই লাইভ দেখে ঈমনের মতো একটি তরুন প্রাণ ঝরে যাওয়ার দৃশ্য দেখে সবাই। কিন্তু নদীতে স্রোত বেশি থাকায় তারে আর খুজে পাওয়া যায়নি। আজ আনুমানিক ১২ টায় মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী থেকে আশা ডুবুরি দল দীর্ঘ তিন ঘন্টা পর ঈমনের মরাদেহ শ্যমনগর মাছের অভয় আশ্রম এর পুব পাশে থেকে উদ্ধার করেন।