সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন দেয়ার বিষয়ে পুনরায় আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অফিসারকেও নির্দেশনা পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে এ নিয়ে একাধিকবার আদেশ জারি ও স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের বলছেন, ১৩তম গ্রেডে বেতন দেয়ার এই সিদ্ধান্তের উপকারভোগী হবেন সারা দেশের সাড়ে ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক। তাদের বেতন স্কেল হলো ১১ হাজার টাকা। যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত হবে। নতুন ও পুরনো সব ধরনের সহকারী শিক্ষকরা এ সুবিধা পাবেন।

এতদিন সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ১৪তম গ্রেডে (১০ হাজার ২০০ টাকা) এবং প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকেরা ১৫তম গ্রেডে (৯ হাজার ৭০০ টাকা) বেতন পেতেন। এখন উভয় ধরনের শিক্ষকরাই ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন।

তবে শিক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, সহকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন। শিক্ষকরা হয়তো বাড়তি বেতন পাবেন। কিন্তু তাদের ওই চাওয়াই বহাল রইল।

মন্ত্রণালয় সূত্র শিক্ষা টাইমসকে জানায়, সহকারী শিক্ষকদের সর্বশেষ বেতন বাড়ানো হয়েছিল ২০১২ সালের ৯ মার্চ। তখন সহকারী শিক্ষকদের বেতন এক ধাপ বাড়িয়ে ১৫তম থেকে ১৪তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছিল। প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকরা এক ধাপ নিচে বেতন পেতেন।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে সাড়ে ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা বাকি বিদ্যালয়গুলোতে চলতি দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে। বুধবার (৩ জানুয়ারী) জারি করা আদেশে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯ জারির পূর্বে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে যারা এখনো কর্মরত আছেন, তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলপূর্বক বেতন গ্রেড নির্ধারণে অর্থ বিভাগের সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।