মার্চ (২০২১) মাসের বেতন দিতে ইএফটিতে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত  রাত থেকে ইএমআইএস সেলের ওয়েবসাইটে আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে শিক্ষকরা ইএফটির তথ্য ফরম পূরণ করতে পারছেন।

ফরম পূরণের নির্দেশনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোনিনুর রশিদ আমিন একথা বলেছেন।

মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির এমপিওর টাকা ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে। আর এজন্য শিক্ষকদের জন্য ইএফটির ফরম প্রস্তুত করা হয়েছে যা প্রকাশ করা হলো।

অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ইএমআইএস ওয়েবসাইটে ইএফটি ফরম প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষকরা নিজেরাই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে সে ফরম পূরণ করবেন। আশা করছি, ফেব্রুয়ারির এমপিও মার্চ মাসে শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের ফরমপূরণে কোন ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। তাদের শুধু ছবি স্ক্যান করে সংযুক্ত করতে হবে। শিক্ষকদের অন্যান্য তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষকদের তথ্য সার্ভার থেকে সংগ্রহ করা হবে।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে এক সভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন ইএফটিতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইএফটিতে এমপিওর টাকা দিতে শিক্ষকদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। ৯ ধরণের তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের।

আরও পড়ুন-

ইএফটিতে বেতন পেতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যেসব তথ্য লাগবে

ইএফটিতে বেতন পেতে শিক্ষকদের যেসব তথ্য লাগবে তা হল, জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর, এসএসসির সনদ অনুযায়ী শিক্ষকদের নাম-এক্ষেত্রে শিক্ষাসনদ, এমপিও শিট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানান একই হতে হবে। কর্মচারীদের সর্বশেষ শিক্ষাসনদের নাম, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নামের ব্যাংক হিসাব, ব্যাংকের নাম, শাখার নাম, রাউটিং নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর (১৩-১৭ ডিজিটের), শিক্ষক কর্মচারীদের জন্মতারিখ, বেতন কোড ও বেতনের ধাপ এবং শিক্ষক কর্মচারীদের মোবাইল নম্বর। 

কিছু দিন আগে দেয়া এক নির্দেশনায় অধিদপ্তর বলেছে, সব তথ্য সঠিক না থাকলে এমপিও টাকা শিক্ষক কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে না। এসব তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের মধ্যেমে অনলাইনে সংগ্রহের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ইএমআইএস সেলের লিংকসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে। এসব তথ্যগুলো সংগ্রহ করে শিক্ষকদের প্রস্তুত থাকতে শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। 

এদিকে শিক্ষা অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইএফটিতে বেতন প্রক্রিয়া নানাভাবে বিলম্বিত করার জন্য নানা ফন্দি করার অভিযোগ উঠেছে। 

সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনও ইএফটিতে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াটি করতে গিয়ে ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও অধিদপ্তর এ জন্য লেনদেন না করতে শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়েছে।