আসন্ন জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীগের প্রার্থী হিসাবে তৃনমুল নেতাকর্মীদের কাছে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইলিয়াস হোসেন বাবলুর নাম। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটার ও সরকার দলীয় নেতর্কীদের সাথে আলাপকালে এমনটাই ফুটে উঠেছে। ইলিয়াস হোসেন বাবলু মরহুম মোশারফ হোসেনর ২য় পুত্র।

বর্তমানে তিনি জলঢাকা উপজেলার কৃষকলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পিতা মরহুম মোশারফ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় আওয়ামীলীগের দুর্দিনে কান্ডারীর ভুমিকা পালন করেছেন তিনি। ইলিয়াস হোসেন বাবলুর পিতামহ জলঢাকা উপজেলা আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার বাবা মোশাররফ হোসেনও ছিল উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বাবলুর চাচা মো. আশরাফ হোসেন বর্তমানে পৌর আ’লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সবচেয়ে বড় পরিচয় বাবলু আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তার বড় ভাই মাহবুব হোসেন মিন্টু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে তার বাবার ভুমিকা ছিল সমাদৃত। দুইবার পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করেন ইলিয়াস হোসেন বাবলু, ২০১১-২০১৫ সাল পর্যন্ত মেয়র হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এছাড়াও ইলিয়াস হোসেন বাবলু জলঢাকা উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি, জেলা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ এর সদস্য এবং নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ এর সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পৌরসভার আওয়ামীলীগের ৯টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা বলছেন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে বাবলুর বিকল্প নেই। তারা আরও বলেন, বর্তমান মেয়র বিএনপির সভাপতির কাছ থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হলে বাবলুকেই প্রয়োজন।

৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুস সামাদ ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি আহম্মেদ হোসেন লাল ২নং ওয়ার্ডের সোনা মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, একমাত্র বাবলু ছাড়া অন্য প্রার্থী দিয়ে এ আসনটি ছিনিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ইলিয়াস হোসেন বাবলুকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

সম্প্রতি পৌর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একক প্রার্থী হিসাবে ইলিয়াস হোসেন বাবলুই সমর্থন পায় পৌরসভার নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে। তারপরেও ৩জন প্রার্থী তালিকা গ্রহণ করেন জেলা নেতৃবৃন্দ। একজন শ্রী জিতেন্দ্র নাথ। বর্ধিত সভায় তার প্রস্তাবকারী সমর্থনকারী কেউ ছিল না। স্ব-ঘোষিত প্রার্থী হিসাবে জিতেন্দ্র নাথ নিজেই তার নাম লেখান। অপর আরেকজন উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয় সম্পাদক মহসিন আলী। তার প্রস্তাবকারী থাকলেও বর্ধিত সভায় সমর্থনকারী খুজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের বলেন পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে চাইলে ইলিয়াস হোসেন বাবলুর হাতে দলীয় প্রতীক দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা পৌরসভা আ’লীগ গঠনতান্ত্রিক ভাবে বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে ইলিয়াস হোসেন বাবলুর নাম কেন্দ্রে প্রস্তাব করেছি।

আমরা আশা করি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে দল মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মতামতের মূল্য দিয়ে ইলিয়াস হোসেন বাবলুকেই দলীয় মনোনয়ন দিবেন। তাছাড়া ইলিয়াস হোসেন বাবলুর পক্ষে যে জনমত তৈরী হয়েছে আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত। উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে বাবলুকে মনোনয়ন দিলে আমরা বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করতে পারব।

সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান বিএ বলেন, জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীকে প্রতিহত করতে চাইলে আওয়ামীলীগ থেকে বাবলুই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বলেন, দীর্ঘদিন পৌরসভাটিতে দলীয় প্রার্থী না থাকায় উন্নয়ন হয়নি। তাই আগামী পৌরসভা নির্বাচনে আ’লীগ থেকে ইলিয়াস হোসেন বাবলু মনোনয়ন পেলে সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি।

উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন রুবেল বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করব। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু বলেন, যাচাই-বাছাই করে দল যদি আমাকে মনোনীত করে তবে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে এ আসনটি উপহার দিতে পারব।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারী জলঢাকা পৌরসভার ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফশিল ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন।